ঐতিহাসিক মার্চ ফর গাজাঃ ঘোষণাপত্র ও অঙ্গিকারনামা

ঐতিহাসিক মার্চ ফর গাজাঃ ঘোষণাপত্র ও অঙ্গিকারনামা

 

ঘোষণাপত্র ও অঙ্গীকারনামা

March for Gaza | ঢাকা | ২০২৫


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি পরাক্রমশালী, যিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকারী, যিনি মজলুমের পাশে থাকেন, আর জালেমের পরিণতি নির্ধারণ করেন।


আজ আমরা, বাংলাদেশের জনতা—যারা জুলুমের ইতিহাস জানি, প্রতিবাদের চেতনা ধারণ করি—সমবেত হয়েছি গাজার মৃত্যুভয়হীন জনগণের পাশে দাঁড়াতে।

আজকের এই সমাবেশ কেবল প্রতিবাদ নয়, এটি ইতিহাসের সামনে দেওয়া আমাদের জবাব, একটি অঙ্গীকার, একটি শপথ।


---


আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের দাবি


যেহেতু—


জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সকল জাতির অধিকার রক্ষার, দখলদারিত্ব ও গণহত্যা রোধের সংকল্প প্রকাশ করে;


গাযায় প্রতিদিনের রক্তপাত ও ধ্বংস একক কোনো সরকারের ব্যর্থতা নয়—এটি আন্তর্জাতিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি;


পশ্চিমা শক্তিবলয়ের অনেক রাষ্ট্র সরাসরি ইজরায়েলকে অস্ত্র, অর্থ ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে এই গণহত্যাকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে;


বিশ্বব্যবস্থা দখলদার ইজরায়েলকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে বরং রক্ষা করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে;


সেহেতু আমরা দাবি জানাই—

১। ইজরায়েলের গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে নিশ্চিত করতে হবে;

২। যুদ্ধবিরতি নয়—গণহত্যা বন্ধে কার্যকর ও সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে হবে;

৩। ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী ভূমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে;

৪। পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে;

৫। ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত করতে হবে।


---


মুসলিম উম্মাহর নেতৃবৃন্দের প্রতি আমাদের আহ্বান


যেহেতু—


ফিলিস্তিন মুসলিম উম্মাহর আত্মপরিচয়ের অংশ;


গাযা একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরই নয়—উম্মাহর সম্মিলিত ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি;


প্রতিটি রাষ্ট্র ও নেতৃত্বের উপর অর্পিত আছে দায়িত্ব ও ভ্রাতৃত্বের আমানত;


ইজরায়েল অবৈধ, দখলদার ও গণহত্যাকারী রাষ্ট্র;


ভারতের হিন্দুত্ববাদ আজ জায়নবাদী প্রকল্পের প্রতিনিধিতে পরিণত হয়েছে এবং ওয়াকফ সম্পত্তি আইনে হস্তক্ষেপ করছে;


সেহেতু আমরা আহ্বান জানাই—

১। ইজরায়েলের সাথে সকল সম্পর্ক অবিলম্বে ছিন্ন করতে হবে;

২। বাণিজ্যিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে;

৩। গাযার জনগণের জন্য চিকিৎসা, খাদ্য, আবাসন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে;

৪। ইজরায়েলকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করতে কূটনৈতিক অভিযান শুরু করতে হবে;

৫। ভারতের মুসলিম নিপীড়নের বিরুদ্ধে ওআইসি ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে কার্যকর অবস্থান নিতে হবে।


---


বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমাদের দাবি


যেহেতু—


বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, যার চেতনায় রয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ;


ফিলিস্তিনের প্রশ্নে বাংলাদেশ মানবতার এবং ঈমানের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে;


সরকারকে জনগণের ঈমানি আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে;


সেহেতু আমরা আহ্বান জানাই—

১। পাসপোর্টে 'Except Israel' শর্ত পুনর্বহাল এবং ইজরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ঘোষণা স্পষ্ট করতে হবে;

২। ইসরায়েলি যেকোনো চুক্তি বাতিল করতে হবে;

৩। গাজায় রাষ্ট্রীয়ভাবে ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠাতে হবে;

৪। জায়নবাদী কোম্পানির পণ্য বর্জনের সরকারি নির্দেশনা দিতে হবে;

৫। হিন্দুত্ববাদী ভারতের মুসলিম নিপীড়নের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিবাদ জানাতে হবে;

৬। পাঠ্যবই ও শিক্ষা নীতিতে আল-আকসা, ফিলিস্তিন এবং মুসলিমদের সংগ্রামী ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।


---


নিজেদের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার


যেহেতু—


আল-কুদস ঈমানের অংশ, তার মুক্তি আমাদের প্রজন্মের হাতেই হবে ইন শা আল্লাহ;


আজকের প্রস্তুতিই আগামী ভবিষ্যতের রক্ষাকবচ;


গাযা আমাদের জন্য এক আয়না—যেখানে প্রতিফলিত হয় ঈমান ও সংগ্রামের প্রকৃত অর্থ;


সেহেতু আমরা অঙ্গীকার করছি—

১। ইজরায়েল সমর্থিত সকল পণ্য ও কোম্পানিকে বয়কট করবো;

২। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইসলামী আদর্শ ও ঐতিহ্যের প্রতি সচেতন করবো;

৩। সন্তানদের আদর্শিকভাবে গড়ে তুলবো—যারা জান-মাল দিয়ে আদর্শ ও ভূখণ্ড রক্ষায় প্রস্তুত থাকবে;

৪। আমরা বিভক্ত হবো না—ঐক্যবদ্ধ থাকবো, যাতে বাংলাদেশ কোনোদিন দ্বিতীয় গাজা না হয়।


আমরা শুরু করবো নিজেদের ঘর থেকে—

ভাষা, ইতিহাস, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সমাজ—সবখানে এই অঙ্গীকারের ছাপ রেখে।


আমরা মনে রাখবো—

গাযার শহীদরা কেবল দো'আ চান না—তাঁরা আমাদের প্রস্তুতি চান।


---


শেষকথা


শান্তি বর্ষিত হোক—

গাযার সম্মানিত অধিবাসীদের উপর,

হিন্দ রজব, রীম, ফাদি আবু সালেহ সহ সকল শহীদের উপর—

যাঁদের রক্তে গাজার পবিত্রভূমি আরও পবিত্র হয়েছে।


শান্তি বর্ষিত হোক—

বাইতুল মাকদিসের গর্বিত অধিবাসীদের উপর—

যাঁদের হৃদয়ে এখনো ধ্বনিত হয়: আল-কুদস লানা—আল-কুদস আমাদের!


গাজার জনগণকে অভিনন্দন—

আপনারা ঈমান, সবর ও কুরবানীর মহাকাব্য রচনা করেছেন।

বাংলাদেশের মানুষ—শাহ জালাল ও শরীয়তুল্লাহর ভূমি থেকে—

আপনাদের শহীদদের প্রতি ভালোবাসা ও সালাম জানাই।


আর আমাদের দো'আ—

হে আল্লাহ, গাজার সাহসী জনপদকে তুমি সেই পাথর বানিয়ে দাও—

যার উপর গিয়ে ভেঙে পড়বে জায়োনিস্টদের সব ষড়যন্ত্র।


বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে,

প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট, বাংলাদেশ।

How did you feel about the post?
Hope to encourage the author with your valuable feedback.

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন